যে সময়ে এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল, তখন আমি সবে যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রীতিকর নেব্রাস্কা অঞ্চলে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা শেষ করে ফিরেছি। প্যারিসের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের সহকারী অধ্যাপক পদের সুবাদে ফরাসি সরকার আমাকে সেই অভিযানে যুক্ত করেছিল। নেব্রাস্কায় ছয় মাস কাটিয়ে মার্চের শেষ দিকে আমি এক মূল্যবান সংগ্রহ নিয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছলাম। ফ্রান্সে আমার যাত্রার দিন ঠিক হয়েছিল মে মাসের প্রথম দিকে। এর মধ্যে আমি আমার খনিজবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা-সংক্রান্ত সম্পদগুলো শ্রেণিবদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, এমন সময় স্কোশিয়ার দুর্ঘটনাটি ঘটল।
সেদিনের আলোচিত বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলাম। না হয়ে উপায় কী? আমেরিকা ও ইউরোপের সব পত্রিকা আমি পড়েছিলাম, বারবার পড়েছিলাম, তবু কোনো সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছতে পারিনি। এই রহস্য আমাকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিল। কোনো মত গঠন করা অসম্ভব হওয়ায় আমি এক চরম থেকে আরেক চরমে লাফিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। সত্যিই যে কিছু একটা আছে, তাতে সন্দেহের অবকাশ ছিল না, আর অবিশ্বাসীদের আহ্বান জানানো হচ্ছিল স্কোশিয়ার ক্ষতে আঙুল রেখে দেখতে।
আমি যখন নিউইয়র্কে পৌঁছলাম, প্রশ্নটি তখন তুঙ্গে। ভাসমান দ্বীপ আর নাগালের বাইরের বালুচরের যে অনুমান বিচার-ক্ষমতায় অপটু কিছু লোক সমর্থন করত, তা পরিত্যক্ত হয়েছিল। আর সত্যিই তো, এই চরের পেটের ভেতরে যদি কোনো যন্ত্র না থাকে, তবে সে এমন বিস্ময়কর দ্রুততায় নিজের অবস্থান বদলায় কী করে?
একই কারণে কোনো বিশাল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের ভাসমান খোলের ধারণাও বাদ দেওয়া হল।
তাহলে প্রশ্নটির মাত্র দুটি সম্ভাব্য সমাধান বাকি রইল, আর তা থেকে দুটি আলাদা দল তৈরি হল: এক দিকে যারা প্রবল শক্তিধর এক দানবের পক্ষে; অন্য দিকে যারা বিপুল চালিকাশক্তিসম্পন্ন এক ডুবোজাহাজের পক্ষে।
কিন্তু এই শেষ অনুমানটি যতই বিশ্বাসযোগ্য হোক, দুই দুনিয়ায় চালানো অনুসন্ধানের সামনে তা টিকতে পারল না। কোনো ব্যক্তিবিশেষের হাতে এমন একটা যন্ত্র থাকবে, তা সম্ভাব্য মনে হয় না। কোথায়, কখন, আর কীভাবে এটা তৈরি হয়েছিল? আর এর নির্মাণ গোপনই বা রাখা গেল কীভাবে? অবশ্য কোনো সরকারের কাছে এমন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র থাকতে পারে। আর এই দুর্যোগময় কালে, যখন মানুষের উদ্ভাবনী বুদ্ধি যুদ্ধাস্ত্রের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে, তখন এটা সম্ভব ছিল যে অন্যদের অজান্তে কোনো রাষ্ট্র এমন ভয়ংকর এক যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করছে। শাসপো বন্দুকের পরে এল টর্পেডো, টর্পেডোর পরে ডুবো-ঢুঁসোজাহাজ, তারপর—প্রতিক্রিয়া। অন্তত আমি তা-ই আশা করি।
কিন্তু সরকারগুলোর ঘোষণার সামনে যুদ্ধযন্ত্রের অনুমানটি ভেঙে পড়ল। যেহেতু জনস্বার্থের প্রশ্ন জড়িত ছিল, আর আটলান্টিক-পারের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, তাই তাদের সত্যবাদিতা নিয়ে সন্দেহ করা যেত না। তা ছাড়া, এই ডুবোনৌকার নির্মাণ জনসাধারণের চোখ এড়িয়ে গেছে, এ কথা মানা যায় কী করে? এমন পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির পক্ষে গোপনীয়তা রক্ষা করা হত খুব কঠিন, আর যে রাষ্ট্রের প্রতিটি কাজ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবিরাম নজরে রাখে, তার পক্ষে তো নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব।
ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, প্রুশিয়া, স্পেন, ইতালি ও আমেরিকায়, এমনকি তুরস্কেও অনুসন্ধান চালানোর পর ডুবো-মনিটরের অনুমানটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেল।
আমি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আলোচ্য ঘটনাটি নিয়ে আমার পরামর্শ নিয়ে আমাকে সম্মানিত করলেন। ফ্রান্সে আমি দুই খণ্ডে কোয়ার্টো আকারের একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলাম, যার নাম “মহাসাগরতলের গভীর অঞ্চলের রহস্য”। পণ্ডিতমহলে অত্যন্ত সমাদৃত এই বইটি প্রাকৃতিক ইতিহাসের এই বেশ অস্পষ্ট শাখায় আমাকে বিশেষ খ্যাতি এনে দিয়েছিল। আমার মতামত চাওয়া হল। যতক্ষণ আমি ঘটনাটির বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারছিলাম, ততক্ষণ আমি দৃঢ় অস্বীকৃতির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু শিগগিরই কোণঠাসা হয়ে পড়ে আমাকে সুস্পষ্টভাবে নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে হল। এমনকি নিউইয়র্ক হেরাল্ড “মাননীয় পিয়ের আরোনাক্স, প্যারিস জাদুঘরের অধ্যাপক”-কে কোনো না কোনো সুনির্দিষ্ট মত প্রকাশের আহ্বান জানাল। আমি কিছু একটা করলাম। মুখ বন্ধ রাখার ক্ষমতা ছিল না বলে আমি মুখ খুললাম। আমি প্রশ্নটির সব দিক নিয়ে, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে আলোচনা করলাম; আর ৩০ এপ্রিলের সংখ্যায় প্রকাশিত আমার একটি সযত্নে বিবেচিত প্রবন্ধ থেকে এখানে একটি অংশ তুলে দিচ্ছি। লেখাটি ছিল এই রকম:—
“বিভিন্ন অনুমান একে একে পরীক্ষা করে, অন্য সব প্রস্তাব বাতিল করে, বিপুল শক্তিধর এক সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
“মহাসাগরের বিশাল গভীরতা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। মাপজোকের দড়ি সেখানে পৌঁছতে পারে না। সেই সুদূর গভীরে কী ঘটে—পানির উপরিভাগের বারো বা পনেরো মাইল নিচে কোন প্রাণীরা বাস করে বা করতে পারে—এই প্রাণীদের দেহগঠন কেমন, তা আমরা প্রায় অনুমানও করতে পারি না। তবে আমার সামনে উপস্থাপিত সমস্যার সমাধান হয়তো এই উভয়সংকটের রূপ বদলে দিতে পারে। হয় আমরা আমাদের গ্রহে বসবাসকারী সব রকমের প্রাণীকে চিনি, নয়তো চিনি না। যদি আমরা সবাইকে না চিনি—যদি মৎস্যবিজ্ঞানে প্রকৃতির এখনো আমাদের কাছে গোপন কিছু থেকে থাকে—তবে এমন মাছ, বা অন্য প্রকারের তিমিজাতীয় প্রাণী, এমনকি নতুন প্রজাতির অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়ার চেয়ে যুক্তিসংগত আর কিছুই নেই, যাদের দেহগঠন মাপজোকের নাগালের বাইরের স্তরে বাস করার উপযোগী, এবং কোনো এক দুর্ঘটনা—হয় খেয়ালি, নয় আকস্মিক—দীর্ঘ বিরতিতে তাদের মহাসাগরের উপরের স্তরে নিয়ে এসেছে।
“অন্য দিকে, যদি আমরা সব জীবিত প্রজাতিকে চিনি, তবে আলোচ্য প্রাণীটিকে আমাদের অবশ্যই ইতিমধ্যে শ্রেণিবদ্ধ সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে খুঁজতে হবে; আর সে ক্ষেত্রে আমি এক অতিকায় নারহোয়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করতে প্রস্তুত।
“সাধারণ নারহোয়েল, বা সমুদ্রের একশৃঙ্গ, প্রায়ই ষাট ফুট লম্বা হয়। তার আকার পাঁচ গুণ বা দশ গুণ বাড়িয়ে দিন, আকারের অনুপাতে তাকে শক্তি দিন, তার ধ্বংসাত্মক অস্ত্রগুলো লম্বা করে দিন, তাহলেই আপনি কাঙ্ক্ষিত প্রাণীটিকে পেয়ে যাবেন। তার থাকবে শ্যাননের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত মাপ, স্কোশিয়ার ছিদ্রের জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, আর স্টিমারের খোল ভেদ করার জন্য দরকারি শক্তি।
“বস্তুত নারহোয়েল সজ্জিত থাকে এক ধরনের হাতির দাঁতের তলোয়ারে, কিছু প্রকৃতিবিদের ভাষায় এক ধরনের বল্লমে। প্রধান দাঁতটির কাঠিন্য ইস্পাতের মতো। এই দাঁতগুলোর কোনো কোনোটি তিমির দেহে বিঁধে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যাদের একশৃঙ্গ সব সময় সফলভাবে আক্রমণ করে। অন্যগুলো জাহাজের তলা থেকে বেশ কষ্ট করে টেনে বের করা হয়েছে, যেগুলো তারা এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলেছিল, যেমন তুরপুন পিপে ফুটো করে। প্যারিসের চিকিৎসা অনুষদের জাদুঘরে এমন একটি আত্মরক্ষার অস্ত্র আছে, যা সোয়া দুই গজ লম্বা আর গোড়ায় পনেরো ইঞ্চি ব্যাসের।
“বেশ তো! ধরে নিন এই অস্ত্রটি ছয় গুণ বেশি মজবুত আর প্রাণীটি দশ গুণ বেশি শক্তিশালী; ঘণ্টায় বিশ মাইল বেগে তাকে ছুটিয়ে দিন, তাহলেই এমন একটা ধাক্কা পাবেন যা কাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম। অতএব আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই মতই পোষণ করব যে এটা এক বিশাল আকারের সমুদ্র-একশৃঙ্গ, যার অস্ত্র বল্লম নয়, বরং সাঁজোয়া ফ্রিগেট বা যুদ্ধের ‘ঢুঁসোজাহাজ’-এর মতো এক সত্যিকারের গলুই-শূল, আর একই সঙ্গে তার থাকবে সেগুলোর বিশালতা ও চালিকাশক্তি। এভাবেই এই বিভ্রান্তিকর ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে, যদি না এমন কিছু থেকে থাকে যা মানুষ এ পর্যন্ত যা কিছু অনুমান করেছে, দেখেছে, উপলব্ধি করেছে বা অভিজ্ঞতা লাভ করেছে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে; আর সেটাও সম্ভাবনার সীমার মধ্যেই পড়ে।”
এই শেষ কথাগুলো আমার দিক থেকে ছিল কাপুরুষোচিত; কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আমি অধ্যাপক হিসেবে আমার মর্যাদা রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, আর আমেরিকানদের খুব বেশি হাসির খোরাক জোগাতে চাইনি, কারণ তারা যখন হাসে, প্রাণ খুলেই হাসে।
আমি নিজের জন্য একটা পালানোর পথ খোলা রেখেছিলাম। তবে কার্যত আমি “দানব”-এর অস্তিত্ব স্বীকারই করে নিয়েছিলাম। আমার প্রবন্ধটি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হল, যা তাকে বেশ খ্যাতি এনে দিল। এর চারপাশে কিছু সমর্থক জুটে গেল। এতে প্রস্তাবিত সমাধান অন্তত কল্পনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। মানুষের মন অতিপ্রাকৃত প্রাণীদের বিশাল কল্পনায় আনন্দ পায়। আর সাগরই হচ্ছে ঠিক তাদের শ্রেষ্ঠ বাহন, একমাত্র মাধ্যম যেখানে এই দানবেরা (যাদের তুলনায় হাতি বা গন্ডারের মতো স্থলচর প্রাণী কিছুই না) জন্ম নিতে বা বেড়ে উঠতে পারে।
শিল্প ও বাণিজ্য-বিষয়ক পত্রিকাগুলো প্রধানত এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রশ্নটি বিবেচনা করল। শিপিং অ্যান্ড মার্কেন্টাইল গেজেট, লয়েডস লিস্ট, প্যাকেট-বোট, আর মেরিটাইম অ্যান্ড কলোনিয়াল রিভিউ—বিমা কোম্পানিগুলোর পক্ষের এই সব পত্রিকা, যে কোম্পানিগুলো তাদের প্রিমিয়ামের হার বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছিল—এই বিষয়ে একমত ছিল। জনমত তার রায় দিয়ে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম মাঠে নামল; আর নিউইয়র্কে এই নারহোয়েলকে তাড়া করার জন্য একটি অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হল। আব্রাহাম লিংকন নামের এক দ্রুতগামী ফ্রিগেটকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজে নামানো হল। কমান্ডার ফ্যারাগাটের জন্য অস্ত্রাগারগুলো খুলে দেওয়া হল, তিনি তাঁর ফ্রিগেটকে অস্ত্রসজ্জিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিলেন; কিন্তু সব সময় যেমন হয়, যে মুহূর্তে দানবটিকে তাড়া করার সিদ্ধান্ত হল, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে দানবটি আর দেখা দিল না। দুই মাস ধরে কেউ তার কথা শুনল না। কোনো জাহাজ তার দেখা পেল না। মনে হচ্ছিল যেন এই একশৃঙ্গ তার চারপাশে বোনা ষড়যন্ত্রের কথা জানত। তাকে নিয়ে এত কথা হয়েছিল, এমনকি আটলান্টিকের তার দিয়েও, যে রসিকেরা বলতে লাগল, এই ছিপছিপে মাছিটা পথে একটা টেলিগ্রাম আটকে দিয়ে তার পুরো সুবিধা নিচ্ছে।
তাই যখন ফ্রিগেটটিকে দীর্ঘ অভিযানের জন্য অস্ত্রসজ্জিত করা হল এবং ভয়ংকর সব শিকারের সরঞ্জাম দেওয়া হল, তখন কেউই বলতে পারল না কোন পথে যাওয়া উচিত। অধৈর্য দ্রুত বেড়ে চলছিল, এমন সময় ২ জুলাই জানা গেল যে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সাংহাইগামী সান ফ্রান্সিসকো লাইনের একটি স্টিমার তিন সপ্তাহ আগে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে প্রাণীটিকে দেখেছে। এই খবরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হল। জাহাজে নতুন করে রসদ তোলা হল, আর প্রচুর কয়লা মজুত করা হল।
আব্রাহাম লিংকন ব্রুকলিন জেটি ছাড়ার তিন ঘণ্টা আগে আমি নিচের ভাষায় লেখা একটি চিঠি পেলাম:—
“মঁসিয়ে আরোনাক্স, প্যারিস জাদুঘরের অধ্যাপক, ফিফথ অ্যাভিনিউ হোটেল, নিউইয়র্ক সমীপে।
“মহোদয়,—আপনি যদি এই অভিযানে আব্রাহাম লিংকনে যোগ দিতে সম্মত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সানন্দে দেখবে যে এই উদ্যোগে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কমান্ডার ফ্যারাগাট আপনার জন্য একটি কেবিন প্রস্তুত রেখেছেন।
“আন্তরিকভাবে আপনার, “জে. বি. হবসন, “নৌসচিব।”