
এটা সেই গভীর সাগরের মহাগান, যা সেন্ট পল দ্বীপের সব সিল গ্রীষ্মে নিজেদের সৈকতে ফেরার পথে গায়। এটা এক ধরনের খুব করুণ সিলদের জাতীয় সংগীত।
ভোরবেলা দেখা হলো সাথিদের সাথে (আহা, আমি যে বুড়ো হলাম!) যেখানে পাথুরে তাকে গর্জে গড়াত গ্রীষ্মের ঢেউয়ের দল; শুনেছি ওদের তোলা সুর, যা ঢেকে দিত ভাঙা ঢেউয়ের গান— লুকাননের সৈকত—বিশ লাখ কণ্ঠের জোরালো তান।

নোনা লেগুনের পাশে সুখের আস্তানার গান, বালিয়াড়ি বেয়ে নেমে আসা ফোঁসফোঁস-করা দলের গান, মাঝরাতের নাচের গান, যা সাগরে জ্বালাত আগুন— লুকাননের সৈকত—শিকারিরা আসার আগের সেই দিন!
ভোরবেলা দেখা হলো সাথিদের সাথে (আর কখনো হবে না দেখা!); দলে দলে ওরা আসত-যেত, সারা তীর ছেয়ে যেত কালোয়। আর ফেনা-ছিটানো দূর সাগরে যতদূর যায় গলার স্বর, আমরা ডাকতাম তীরে-নামা দলকে, গান গেয়ে তুলতাম সৈকতের 'পর।
লুকাননের সৈকত—লম্বা শীতের গম— টুপটাপ-ঝরা কোঁচকানো শৈবাল, আর সব ভিজিয়ে দেওয়া সাগর-কুয়াশা! আমাদের খেলার চাতাল, চকচকে মসৃণ, ক্ষয়ে-যাওয়া! লুকাননের সৈকত—যেখানে আমাদের জন্ম, সেই ঘর!

ভোরবেলা দেখা হলো সাথিদের সাথে, এক ভাঙা, ছত্রভঙ্গ দল। মানুষ আমাদের গুলি করে পানিতে, ডাঙায় পিটিয়ে মারে; মানুষ আমাদের তাড়িয়ে নেয় নুন-ঘরে বোকা পোষা ভেড়ার মতো, তবু আমরা গাই লুকাননের গান—শিকারিরা আসার আগের কথা।
ঘুরে ঘুরে নামো দক্ষিণে; ওহে গুভেরুস্কা, যাও! গভীর সাগরের রাজপ্রতিনিধিদের আমাদের দুঃখের কাহিনি শোনাও; ঝড়ে তীরে ছুড়ে ফেলা হাঙরের ডিমের মতো শূন্য হয়ে, লুকাননের সৈকত আর কখনো চিনবে না তার সন্তানদের!
