লাইব্রেরি

বান্দর-লগের পথ-চলার গান

জঙ্গল বুক · রুডইয়ার্ড কিপলিং · অনুবাদ: ক্লড ওপাস

সন্ধ্যায় উঠন্ত পূর্ণিমার চাঁদের নিচে একসারি ধূসর হনুমান ডাল থেকে ডালে দোল খেয়ে গাছের মাথা পার হচ্ছে।

এই দেখো, মালার মতো দুলে দুলে চলেছি আমরা, হিংসুটে চাঁদের আধেক পথে! আমাদের নাচুনে দল দেখে হিংসা হয় না তোমার? মনে হয় না, ইস্‌, আরও দুটো হাত যদি থাকত? তোমার লেজটাও যদি এমনি করে বাঁকা হতো, কামদেবের ধনুকের মতো, ভালো লাগত না? এখন রাগ করছ, তা--কিছু যায় আসে না, ভাই, তোমার লেজ তো পেছনে ঝোলে!

এই দেখো, ডালে ডালে সারি বেঁধে বসে আছি আমরা, জানা যত সুন্দর জিনিসের কথা ভাবছি; যে-সব কাজ করব বলে ঠিক করেছি তার স্বপ্ন দেখছি, এক-দুই মিনিটেই যা পুরো হয়ে যাবে-- মহৎ, জ্ঞানী আর ভালো কিছু, শুধু ইচ্ছা করলেই যা হয়ে যায়। আমরা ভুলে গেছি, তা--কিছু যায় আসে না, ভাই, তোমার লেজ তো পেছনে ঝোলে!

সোনালি বিকেলের আলোয় একটা মোটা ডালের ওপর পাশাপাশি সারি বেঁধে বসে আছে ধূসর হনুমানের দল।

বাদুড়, পশু বা পাখির মুখে যত কথা আমরা কখনো শুনেছি-- চামড়া, পাখনা, আঁশ বা পালক যারই হোক-- সব একসঙ্গে গড়গড় করে বকে যাও! চমৎকার! অপূর্ব! আবার বলো!

এই তো, আমরা ঠিক মানুষের মতো কথা বলছি! চলো ভান করি যেন আমরা ... কিছু যায় আসে না, ভাই, তোমার লেজ তো পেছনে ঝোলে! বাঁদর-জাতের এই তো রীতি।

একদল ধূসর হনুমান গাছের ওপর মুখ হাঁ করে চেঁচামেচি করছে, একটার লম্বা লেজ ডালের নিচে ঝুলে আছে।

তবে এসো, যোগ দাও আমাদের লাফানো সারিতে, যারা পাইন বনের ভেতর দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ছোটে, হাউইয়ের মতো ছুটে যায় সেখানে, যেখানে হালকা আর উঁচুতে বুনো আঙুর দোলে। আমাদের পেছনে পড়ে থাকা আবর্জনা দেখে, আর আমাদের মহান হইচই শুনে, নিশ্চিত জেনো, নিশ্চিত জেনো, আমরা দারুণ কিছু একটা করতে যাচ্ছি!

রোদঝলমল গাছের ভেতর দিয়ে ধূসর হনুমানেরা সারি বেঁধে লাফিয়ে চলেছে, সামনেরটা একটা ঝুলন্ত লতা আঁকড়ে ধরেছে আর পেছনে পাতা ঝরে পড়ছে।