বহু বছর আগে এক লোক ছিল, যে বিশ্বাস করত সে তারা দেখে ভবিষ্যৎ বলতে পারে। সে নিজেকে জ্যোতিষী বলে পরিচয় দিত, আর রাতের বেলা আকাশের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাত।
এক সন্ধ্যায় সে গ্রামের বাইরে খোলা রাস্তা ধরে হাঁটছিল। তার চোখ আটকে ছিল আকাশের তারায়। তার মনে হলো, সে তারায় দেখতে পাচ্ছে পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে এসেছে—আর ঠিক তখনই হঠাৎ সে কাদা-জলে ভরা একটা গর্তে পড়ে গেল।
গর্তের কাদাজলে সে কান পর্যন্ত ডুবে দাঁড়িয়ে রইল, আর ওপরে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টায় পাগলের মতো আঁচড়ে ধরতে লাগল গর্তের পিছল দেয়াল।
তার বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন ছুটে এল। কাদা থেকে তাকে টেনে তুলতে তুলতে তাদের একজন বলল:
‘তুমি ভান করো তারা দেখে ভবিষ্যৎ পড়তে পারো, অথচ নিজের পায়ের নিচে কী আছে তা-ই দেখতে পাও না! এ থেকে হয়তো শিখবে, চোখের সামনে যা আছে তার দিকেই বেশি নজর দাও, আর ভবিষ্যৎ তার নিজের পথ নিজেই খুঁজে নিক।’
আরেকজন বলল, ‘এই মাটির ওপর কী আছে তা-ই যখন দেখতে পাও না, তখন তারা পড়ে আর লাভ কী?’
ছোট ছোট জিনিসের যত্ন নাও, বড় জিনিসগুলো নিজেদের যত্ন নিজেরাই নেবে।