কয়েকটা সারস দেখল একজন চাষি একটা বড় খেতে লাঙল দিচ্ছে। লাঙল দেওয়ার কাজ শেষ হলে তারা ধৈর্য ধরে দেখল সে বীজ বুনছে। এ তো তাদেরই ভোজ, তারা ভাবল।
তাই চাষি বীজ বোনা শেষ করে ঘরে ফিরে যাওয়ামাত্র তারা খেতের উপর নেমে এসে যত দ্রুত পারে খেতে শুরু করল।
চাষি অবশ্যই সারস আর তাদের স্বভাব ভালোই চিনত। এমন পাখিদের নিয়ে তার আগেই অভিজ্ঞতা ছিল। সে অচিরেই একটা গুলতি নিয়ে খেতে ফিরে এল। কিন্তু সঙ্গে কোনো পাথর আনল না। সে ভেবেছিল শুধু হাওয়ায় গুলতি ঘুরিয়ে আর জোরে জোরে চেঁচিয়েই সারসদের ভয় দেখাবে।
প্রথমে সারসরা ভীষণ ভয়ে উড়ে পালাল। কিন্তু অচিরেই তারা বুঝতে পারল, তাদের কারও কোনো ক্ষতিই হচ্ছে না। হাওয়া চিরে ছুটে-আসা পাথরের শোঁ শোঁ শব্দও তারা শুনতে পেল না, আর কথার তো কথাই নেই—তাতে কারও প্রাণ যায় না। শেষে তারা চাষিকে একেবারেই পাত্তা দেওয়া বন্ধ করে দিল।
চাষি বুঝল, তাকে অন্য উপায় নিতে হবে। সে অন্তত কিছুটা শস্য বাঁচাতে চাইল। তাই সে তার গুলতিতে পাথর ভরে কয়েকটা সারসকে মেরে ফেলল। এতে চাষির মনের মতো ফল হলো, কেননা সেদিন থেকে সারসরা আর কখনও তার খেতে এল না।
বদমাশদের কাছে ফাঁকা বুলি আর ভয় দেখানো কথার দাম বিশেষ নেই।
ফাঁকা আস্ফালন এই প্রমাণ করে না যে শক্ত মুষ্টির অভাব আছে।