উত্তুরে বাতাস আর সূর্যের মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল, কে তাদের মধ্যে বেশি শক্তিশালী তাই নিয়ে। তারা যখন খুব গরম গলায় আর হুংকার ছেড়ে তর্ক করছিল, এমন সময় গায়ে চাদর জড়ানো এক পথিক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।
সূর্য বলল, ‘চলো এটাই ঠিক করি—যে ওই পথিকের গা থেকে চাদরটা খুলে ফেলতে পারবে, সে-ই বেশি শক্তিশালী।’
‘বেশ,’ গরগর করে বলল উত্তুরে বাতাস, আর সঙ্গে সঙ্গে পথিকের দিকে ছুড়ে দিল এক ঠান্ডা, শনশন করা ঝাপটা।
বাতাসের প্রথম দমকাতেই চাদরের প্রান্তগুলো পথিকের শরীরের চারপাশে চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল। কিন্তু সে সঙ্গে সঙ্গে চাদরটা গায়ে শক্ত করে জড়িয়ে নিল, আর বাতাস যত জোরে বইতে লাগল, সে তত শক্ত করে সেটা চেপে ধরল। উত্তুরে বাতাস রেগেমেগে চাদরটা টেনে ছিঁড়তে চাইল, কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টাই বৃথা গেল।
তারপর সূর্য কিরণ ছড়াতে শুরু করল। প্রথমে তার কিরণ ছিল মোলায়েম, আর উত্তুরে বাতাসের কনকনে ঠান্ডার পর সেই আরামদায়ক উষ্ণতায় পথিক তার চাদরের বাঁধন খুলে দিয়ে সেটাকে কাঁধ থেকে ঢিলেঢালাভাবে ঝুলিয়ে রাখল। সূর্যের কিরণ ক্রমেই আরও গরম আরও গরম হতে লাগল। লোকটি তার টুপি খুলে ফেলল আর কপালের ঘাম মুছল। শেষে সে এত গরম বোধ করল যে চাদরটা খুলে ফেলল, আর জ্বলন্ত রোদ থেকে বাঁচতে রাস্তার ধারের একটা গাছের স্বস্তিদায়ক ছায়ায় গিয়ে গা এলিয়ে দিল।
জোরজবরদস্তি আর হুংকার যেখানে হেরে যায়, সেখানে কোমলতা আর মিষ্টি বোঝানো জিতে যায়।