সিংহ একটা ছাগল খাচ্ছিল, আর সেই ছাগলের শিঙে সে বাজেভাবে আহত হলো। এই ভেবে সে ভীষণ রেগে গেল যে, সে যাকে খাবার হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেই জন্তুরই এত সাহস যে শিঙের মতো বিপজ্জনক জিনিস পরে থাকে আর খাওয়ার সময় তাকে আঁচড়ে দেয়। তাই সে হুকুম দিল, শিংওয়ালা সব জন্তুকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তার রাজত্ব ছেড়ে চলে যেতে হবে।
এই হুকুমে পশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। যাদের দুর্ভাগ্যক্রমে শিং ছিল, তারা সবাই জিনিসপত্র গুছিয়ে চলে যেতে শুরু করল। এমনকি খরগোশ, যার কিনা—তুমি তো জানোই—কোনো শিং নেই বলে ভয়ের কিছুই ছিল না, সে-ও ভয়ংকর সিংহকে নিয়ে বিচ্ছিরি সব স্বপ্ন দেখে ভীষণ অস্থিরতায় একটা রাত কাটাল।
আর ভোরের রোদে সে যখন গর্ত থেকে বেরিয়ে এল, আর সেখানে তার লম্বা, ছুঁচোলো কানের ছায়াটা দেখতে পেল, তখন এক ভীষণ ভয় তাকে চেপে ধরল।
‘বিদায়, প্রতিবেশী ঝিঁঝিঁপোকা,’ সে ডেকে বলল। ‘আমি চললাম। আমি যতই যা-ই বলি না কেন, সে নির্ঘাত বানিয়ে ছাড়বে যে আমার কান দুটোই শিং।’
তোমার শত্রুদের সামান্যতম অজুহাতও দিয়ো না, যা দিয়ে তারা তোমার সুনামে আঘাত হানতে পারে।
তোমাকে আক্রমণ করতে তোমার শত্রুরা যেকোনো অজুহাতই লুফে নেবে।