← লাইব্রেরি

শিয়াল আর কাক

শিশুদের জন্য ঈশপ · ঈশপ · অনুবাদ: ক্লড ওপাস

এক ঝলমলে সকালে শিয়াল তার তীক্ষ্ণ নাকের টানে খাবারের খোঁজে বনের ভেতর দিয়ে চলছিল, এমন সময় মাথার উপরে একটা গাছের ডালে সে একটা কাককে দেখতে পেল। এটা মোটেই এমন নয় যে শিয়াল জীবনে এই প্রথম কোনো কাক দেখল। এবার যা তার নজর কাড়ল আর তাকে থমকে দাঁড়িয়ে আবার তাকাতে বাধ্য করল, তা হলো ভাগ্যবতী কাকটির ঠোঁটে ছিল খানিকটা পনির।

একটি ধূর্ত শিয়াল ডালে বসা কাকের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে, কাকের ঠোঁটে পনির।

‘আর খোঁজাখুঁজির দরকার নেই,’ ভাবল ধূর্ত শিয়াল মশাই। ‘আমার সকালের নাশতার জন্য দিব্যি একটুকরো মুখরোচক খাবার এখানেই রয়েছে।’

সে দৌড়ে গিয়ে যে গাছে কাকটি বসে ছিল তার গোড়ায় পৌঁছাল, আর মুগ্ধ চোখে উপরে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘সুপ্রভাত, সুন্দরী পাখি!’

কাকটি মাথা একদিকে হেলিয়ে সন্দেহভরা চোখে শিয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু সে পনিরটাকে ঠোঁটে শক্ত করে চেপে রাখল, শিয়ালের অভিবাদনের কোনো জবাব দিল না।

‘কী মনোহর পাখি এই কাকটি!’ বলল শিয়াল। ‘ওর পালকগুলো কেমন ঝিকমিক করছে! কী সুন্দর গড়ন, আর কী চমৎকার দুটো ডানা! এমন অপূর্ব পাখির নিশ্চয়ই ভারি মিষ্টি একটা গলা থাকবে, কারণ ওর বাকি সবকিছুই তো এত নিখুঁত। ও যদি শুধু একটিবার গান গায়, আমি জানি আমি ওকে পাখিদের রানি বলে ঘোষণা করব।’

এই তোষামোদের কথা শুনে কাকটি তার সমস্ত সন্দেহ ভুলে গেল, ভুলে গেল তার নাশতার কথাও। তার ভীষণ ইচ্ছে হলো, তাকে পাখিদের রানি বলে ডাকা হোক।

তাই সে যেই না সবচেয়ে জোরে ‘কা’ বলবে বলে ঠোঁট হাঁ করল, অমনি পনিরটা সোজা গিয়ে পড়ল শিয়ালের হাঁ-করা মুখে।

‘ধন্যবাদ,’ চলে যেতে যেতে মিষ্টি করে বলল শিয়াল মশাই। ‘গলাটা ভাঙা হলেও, তোমার একটা গলা যে আছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তোমার বুদ্ধিটা গেল কোথায়?’

তোষামোদকারী তাদের ঘাড়ে ভর করেই বাঁচে, যারা তার কথায় কান পাতে।