একদা এমন এক বিড়াল ছিল, এত সজাগ যে জ্যান্ত খেয়ে ফেলার ভয়ে কোনো ইঁদুর তার গোঁফের ডগাটুকুও দেখাতে সাহস পেত না। সেই বিড়ালকে যেন একসঙ্গে সবখানে দেখা যেত, নখ সবসময় ঝাঁপ দেওয়ার জন্য তৈরি। শেষে ইঁদুরেরা এমন গা-ঘেঁষে নিজেদের গর্তে সেঁধিয়ে রইল যে বিড়াল বুঝল, একটাকে ধরতে হলে তাকে ভালোমতো বুদ্ধি খাটাতে হবে। তাই একদিন সে একটা তাকের ওপর উঠে মরার ভান করে মাথা নিচু করে ঝুলে রইল, এক থাবা দিয়ে কতগুলো দড়ি আঁকড়ে ধরে নিজেকে ঝুলিয়ে রাখল।
ইঁদুরেরা উঁকি দিয়ে তাকে ওই অবস্থায় দেখে ভাবল, নিশ্চয়ই কোনো দোষের শাস্তি হিসেবে তাকে ওখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমে ভীষণ ভয়ে ভয়ে তারা মাথা বার করে সাবধানে চারপাশটা শুঁকল। কিন্তু কিছুই যখন নড়ল না, তখন বিড়ালের মৃত্যু উদ্যাপন করতে সবাই দল বেঁধে আনন্দে বেরিয়ে এল।
ঠিক তখনই বিড়াল তার ধরে থাকা ছেড়ে দিল, আর ইঁদুরেরা তাদের হতভম্ব ভাব সামলে ওঠার আগেই সে তিন-চারটেকে শেষ করে দিল।
এবার ইঁদুরেরা আগের চেয়েও কড়াভাবে ঘরে সেঁধিয়ে রইল। কিন্তু বিড়ালের তখনো ইঁদুরের খিদে, আর সে একটার বেশি কৌশল জানত। গায়ে পুরোপুরি মাখামাখি না হওয়া পর্যন্ত ময়দায় গড়াগড়ি দিয়ে সে ময়দার পাত্রে শুয়ে পড়ল, ইঁদুরদের দিকে এক চোখ খোলা রেখে।
যা ভেবেছিল ঠিক তাই, অচিরেই ইঁদুরেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করল। বিড়ালের কাছে তো ব্যাপারটা প্রায় এমনই লাগছিল যেন একটা মোটাসোটা কচি ইঁদুর তার নখের নিচে এসেই গেছে, ঠিক তখন এক বুড়ো ধেড়ে ইঁদুর—যার বিড়াল আর ফাঁদ নিয়ে বিস্তর অভিজ্ঞতা, এমনকি সেই মাশুল দিতে গিয়ে যে তার ল্যাজের খানিকটা পর্যন্ত খুইয়েছে—দেয়ালের যে গর্তে সে থাকত, তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে সোজা হয়ে বসল।
“সাবধান!” সে চেঁচিয়ে বলল। “ওটা এক গাদা ময়দা হতেও পারে, কিন্তু আমার তো ভীষণভাবে বিড়ালের মতোই ঠেকছে। যা-ই হোক না কেন, নিরাপদ দূরত্বে থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”
বুদ্ধিমানেরা দ্বিতীয়বার নিজেদের ঠকতে দেয় না।