এক ভরত পাখি কচি গমের খেতে তার বাসা বাঁধল। দিন যেতে যেতে গমের গাছ লম্বা হয়ে উঠল, আর ছানাগুলোও ধীরে ধীরে শক্তসমর্থ হয়ে উঠল। তারপর একদিন, পাকা সোনালি শিষ যখন হাওয়ায় দুলছে, চাষি আর তার ছেলে খেতে এল।
“এই গম এখন কাটার উপযুক্ত হয়েছে,” চাষি বলল। “ফসল তুলতে সাহায্যের জন্য আমাদের প্রতিবেশী আর বন্ধুদের ডাকতে হবে।”
কাছেই বাসায় থাকা ভরত পাখির ছানারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল, কারণ তারা জানত, ফসল-কাটার লোকেরা আসার আগে বাসা না ছাড়লে তারা মহাবিপদে পড়বে। মা ভরত পাখি তাদের জন্য খাবার নিয়ে ফিরলে তারা যা শুনেছে সব তাকে বলল।
“ভয় পেয়ো না, বাছারা,” মা ভরত পাখি বলল। “চাষি যদি বলে থাকে যে কাজে সাহায্যের জন্য সে তার প্রতিবেশী আর বন্ধুদের ডাকবে, তাহলে এই গম আরও কিছুদিন কাটা পড়বে না।”
কয়েক দিন পর গম এমন পেকে উঠল যে হাওয়ায় গাছ দুললেই ঝুরঝুর করে গমের দানার বৃষ্টি ভরত ছানাদের মাথায় ঝরে পড়তে লাগল।
“এই গম এখনই যদি না কাটা হয়,” চাষি বলল, “তাহলে অর্ধেক ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে। বন্ধুদের সাহায্যের জন্য আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না। কাল আমাদের নিজেদেরই কাজে নেমে পড়তে হবে।”
ভরত ছানারা সেদিন যা শুনেছিল সব মাকে বললে মা বলল:
“তাহলে আমাদের এক্ষুনি রওনা দিতে হবে। যখন কোনো মানুষ ঠিক করে ফেলে যে সে অন্য কারও ওপর ভরসা না করে নিজের কাজ নিজেই করবে, তখন নিশ্চিত থেকো, আর কোনো দেরি হবে না।”
সেদিন বিকেলে অনেক ডানা ঝাপটানো আর ডানার জোর পরখ করা চলল, আর পরদিন সূর্য ওঠার সময় চাষি আর তার ছেলে যখন গম কাটল, তখন তারা একটা খালি বাসাই দেখতে পেল।
নিজের সাহায্য নিজে করাই সবচেয়ে বড় সাহায্য।