এক জ্যোৎস্নাভরা সন্ধ্যায় শিয়ালমশাই যখন বনে তার রোজকার মতো পায়চারি করছিলেন, তখন তিনি দেখলেন একদল ফিজ্যান্ট পাখি এক লম্বা বুড়ো গাছের ডালে তার নাগালের অনেক বাইরে বসে আছে। ধূর্ত শিয়াল অচিরেই জ্যোৎস্নার এক উজ্জ্বল টুকরো খুঁজে নিল, যেখানে ফিজ্যান্টরা তাকে স্পষ্ট দেখতে পাবে; সেখানে সে পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে এক উদ্দাম নাচ শুরু করল। প্রথমে সে লাটিমের মতো ঘুরপাক খেল, তারপর লাফিয়ে লাফিয়ে উঠল-নামল, নানারকম অদ্ভুত কসরত দেখাতে লাগল। ফিজ্যান্টরা মাথা ঘোরানো চোখে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। এক মুহূর্তের জন্যও তাকে চোখের আড়াল করার ভয়ে তারা চোখের পাতা ফেলতেও সাহস পাচ্ছিল না।
কখনো শিয়াল যেন গাছে ওঠার ভান করল, কখনো গড়িয়ে পড়ে মরার মতো নিথর পড়ে রইল, আবার পরক্ষণেই চার পায়ে ভর দিয়ে পিঠ উঁচিয়ে লাফাতে লাগল, আর তার ঝাঁকড়া ল্যাজটা এমনভাবে দুলছিল যে মনে হচ্ছিল জ্যোৎস্নায় যেন রুপোলি ফুলকি ছিটকে বেরোচ্ছে।
এতক্ষণে বেচারা পাখিদের মাথা একেবারে গুলিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর শিয়াল যেই আবার নতুন করে তার খেলা শুরু করল, তারা এমন হতভম্ব হয়ে পড়ল যে ডাল থেকে তাদের ধরে থাকা আলগা হয়ে গেল, আর একে একে তারা শিয়ালের কাছে টুপটাপ পড়তে লাগল।
বিপদের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিলে আমরা সেই বিপদেরই শিকার হয়ে পড়তে পারি।