একটা কুকুর আর একটা মোরগ ছিল খুব ভালো বন্ধু; দুজনেরই ভারী ইচ্ছে হলো দুনিয়াটা একটু দেখে আসে। তাই তারা ঠিক করল, খামারবাড়ি ছেড়ে বনের দিকে চলে যাওয়া পথ ধরে দুনিয়ায় বেরিয়ে পড়বে। দুই বন্ধু বেশ ফুরফুরে মনে পথ চলল, উল্লেখ করার মতো কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই।
সন্ধে নামতে মোরগ, তার অভ্যেসমতো রাত কাটানোর জায়গা খুঁজতে গিয়ে, কাছেই একটা ফাঁপা গাছ দেখতে পেল, যেটা রাত কাটানোর জন্য বেশ ভালোই হবে বলে তার মনে হলো। কুকুর ভেতরে ঢুকে পড়তে পারবে, আর মোরগ উড়ে গিয়ে কোনো একটা ডালে বসবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ, আর দুজনেই বেশ আরামেই ঘুমিয়ে পড়ল।
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই মোরগের ঘুম ভাঙল। মুহূর্তের জন্য সে ভুলেই গেল, সে কোথায় আছে। সে ভাবল, সে বুঝি এখনও সেই খামারবাড়িতেই আছে, যেখানে ভোরবেলা সবাইকে জাগিয়ে তোলা ছিল তার কাজ। তাই পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে সে ডানা ঝাপটে গলা ছেড়ে ডেকে উঠল। কিন্তু চাষিকে জাগানোর বদলে সে জাগিয়ে তুলল বনের কাছেই থাকা এক শিয়ালকে। শিয়ালের চোখের সামনে সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠল একটা দারুণ সুস্বাদু সকালের নাশতার ছবি। মোরগ যে গাছে বসে ছিল, সেখানে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়ে সে খুব ভদ্রভাবে বলল:
“আমাদের বনে আপনাকে সাদর স্বাগত, মাননীয় মহাশয়। আপনাকে এখানে দেখে যে আমি কত খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমার তো বেশ মনে হচ্ছে, আমরা খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠব।”
“আপনার কথা শুনে আমি ভারী গর্বিত বোধ করছি, দয়ালু মহাশয়,” মোরগ চতুরভাবে উত্তর দিল। “আপনি যদি একটু ঘুরে গাছের নিচে আমার বাড়ির দরজায় যান, আমার দারোয়ান আপনাকে ভেতরে ঢুকিয়ে নেবে।”
খিদেয় কাতর অথচ কিছুই সন্দেহ না-করা শিয়াল কথামতো গাছটা ঘুরে গেল, আর চোখের পলকে কুকুর তাকে জাপটে ধরল।
যারা অন্যকে ঠকাতে চায়, তাদের নিজেদেরই সেই একই মুদ্রায় ফল ভুগতে হয়।