কামান-দলের হাতিরা
আলেকজান্ডারকে আমরা ধার দিয়েছিলাম হারকিউলিসের শক্তি, আমাদের কপালের প্রজ্ঞা, আমাদের হাঁটুর কৌশল; সেবায় আমরা মাথা নুইয়েছিলাম: সে ঘাড় আর কখনো মুক্ত হয়নি—পথ ছাড়ো ওখানে—পথ ছাড়ো দশ ফুটি দলের জন্য, চল্লিশ-পাউন্ডের কামান-বহরের!

কামান-ষাঁড়েরা
সাজ-পরা ওই বীরেরা কামানের গোলা এড়িয়ে চলে, আর বারুদের যতটুকু জানে তাতেই সবাই ঘাবড়ে যায়; তখন আমরা লড়াইয়ে নামি আর আবার কামান টানি—পথ ছাড়ো ওখানে—পথ ছাড়ো বিশ জোড়ার জন্য, চল্লিশ-পাউন্ডের কামান-বহরের!
অশ্বারোহী বাহিনীর ঘোড়া
আমার কাঁধের ছাপের কসম, সবচেয়ে সেরা সুর বাজায় ল্যান্সার্স, হুসার্স আর ড্রাগুনেরা, আর আমার কাছে তা “আস্তাবল” বা “পানি”-র ডাকের চেয়েও মধুর—“বনি ডান্ডি”-র অশ্বারোহী দুলকি চাল!
তবে আমাদের খাওয়াও, পোষ মানাও, সামলাও আর দলাই-মলাই করো, আর আমাদের দাও ভালো সওয়ার আর অনেকখানি জায়গা, আর স্কোয়াড্রনের সারিতে আমাদের ছেড়ে দিয়ে দেখো, “বনি ডান্ডি”-র তালে যুদ্ধের ঘোড়া কেমন চলে!

স্ক্রু-কামানের খচ্চর
আমি আর আমার সঙ্গীরা যখন হাঁচড়ে-পাঁচড়ে পাহাড়ে উঠছিলাম, গড়িয়ে পড়া পাথরে পথ হারিয়ে গেল, তবু আমরা এগিয়ে চললাম; কারণ আমরা এঁকেবেঁকে চড়তে পারি, ভাইসব, আর যেখানে খুশি হাজির হতে পারি, ওহ্, পাহাড়ের চূড়ায় আমাদের আনন্দ, এক-আধটা পা বাড়তি রেখেই!
তবে শুভ হোক সেই সব সার্জেন্টের, যারা আমাদের পথ বেছে নিতে দেয়; অশুভ হোক সেই সব চালকের, যারা বোঝা বাঁধতে জানে না: কারণ আমরা এঁকেবেঁকে চড়তে পারি, ভাইসব, আর যেখানে খুশি হাজির হতে পারি, ওহ্, পাহাড়ের চূড়ায় আমাদের আনন্দ, এক-আধটা পা বাড়তি রেখেই!

রসদ-বাহিনীর উট
আমাদের নিজেদের কোনো উটুরে সুর নেই যা দুলকি চালে চলতে সাহায্য করে, তবে প্রতিটা গলাই এক লোমশ ট্রম্বোন (র্ট্ট-টা-টা-টা! এক লোমশ ট্রম্বোন!) আর এই আমাদের কুচকাওয়াজের গান: পারব না! কোরো না! করব না! যাব না! সারি ধরে বলে দাও! কারও বোঝা পিঠ থেকে পিছলে পড়েছে, আহা, যদি আমারটাই হতো! কারও মাল রাস্তায় উল্টে পড়েছে—জয় হোক থামা আর হট্টগোলের! উর্র্র্! ইয়ার্হ্! গ্র্র্! আর্হ্! এখন কারও কপালে মার জুটছে!
সব পশু একসঙ্গে
আমরা ছাউনির সন্তান, যে যার মাপে সেবা করি; জোয়াল আর পাঁচনের সন্তান, বোঝা আর সাজ, গদি আর মালের। মাঠ জুড়ে দেখো আমাদের সারি, বাঁকানো পায়ের দড়ির মতো, টানটান, মোচড় খেয়ে, গড়িয়ে চলেছে দূরে, সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে যুদ্ধে! আর পাশে যে মানুষেরা হাঁটে, ধুলোমাখা, নীরব, ভারী চোখে, তারা বলতে পারে না কেন আমরা বা তারা দিনের পর দিন কুচকাওয়াজ করি আর কষ্ট সই। আমরা ছাউনির সন্তান, যে যার মাপে সেবা করি; জোয়াল আর পাঁচনের সন্তান, বোঝা আর সাজ, গদি আর মালের!
