এক কালে একটা বিড়াল আর একটা বাঁদর একই বাড়িতে পোষা প্রাণী হয়ে থাকত। তারা ছিল দারুণ বন্ধু, আর সবসময় একসঙ্গে নানা রকম দুষ্টুমিতে মেতে থাকত। আর সবকিছুর চেয়ে বেশি তারা ভাবত কী করে কিছু খাবার জোটানো যায়, আর কীভাবে জোটাল তা নিয়ে তাদের বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না।
একদিন তারা আগুনের ধারে বসে দেখছিল উনুনে কতগুলো বাদাম সেঁকা হচ্ছে। সেগুলো কী করে হাতানো যায়, সেটাই ছিল আসল প্রশ্ন।
“আমি তো আনন্দে ওগুলো এনে দিতাম,” ধূর্ত বাঁদর বলল, “কিন্তু এসব কাজে তুমি আমার চেয়ে ঢের বেশি পটু। তুমি ওগুলো টেনে বের করো, আমি দুজনের মধ্যে ভাগ করে দেব।”
বিড়ালটা খুব সাবধানে তার থাবা বাড়িয়ে কিছু ছাই সরিয়ে দিল, তারপর চট করে থাবা টেনে নিল। তারপর সে আবার চেষ্টা করল, এবার একটা বাদাম আধাআধি আগুন থেকে টেনে আনল। তৃতীয়বারের চেষ্টায় সে বাদামটা টেনে বের করে আনল। এই কসরত সে কয়েকবার করল, আর প্রতিবারই তার থাবা বাজেভাবে পুড়ে গেল। সে যত দ্রুত আগুন থেকে বাদাম টেনে বের করছিল, বাঁদর তত দ্রুত সেগুলো খেয়ে সাবাড় করছিল।
এমন সময় মনিব ঢুকে পড়ল, আর দুই বদমাশ চম্পট দিল—বিড়ালরানির থাবা পোড়া, অথচ একটা বাদামও জোটেনি। লোকে বলে, সেই থেকে সে ইঁদুর-নেংটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকত আর বাঁদর মশাইয়ের সঙ্গে বিশেষ মেলামেশা রাখত না।
তোষামোদকারী তোমার ক্ষতির বিনিময়ে নিজের ফায়দা খোঁজে।