পাখিরা আর পশুরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। কোনো আপস সম্ভব ছিল না, তাই তারা দাঁত আর নখ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। শোনা যায়, শেয়াল-বংশের দাঁতে হাঁস-জাতির উপর যে অত্যাচার হয়েছিল, তা থেকেই এই ঝগড়ার সূত্রপাত। পশুদেরও লড়াইয়ের কারণ ছিল। ঈগল সবসময় খরগোশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত, আর পেঁচা প্রতিদিন ইঁদুর খেয়ে ভোজ সারত।
সে ছিল এক ভয়ানক যুদ্ধ। কত খরগোশ আর কত ইঁদুর মরল। মুরগি আর হাঁস দলে দলে প্রাণ হারাল—আর বিজয়ী সবসময় থেমে ভোজ সারত।
এদিকে বাদুড়-বংশ খোলাখুলিভাবে কোনো পক্ষেই যোগ দেয়নি। তারা ছিল বড় চতুর এক জাত। তাই যখন তারা দেখল পাখিরা জিতছে, তখন তারা পুরোদস্তুর পাখি হয়ে গেল। কিন্তু যুদ্ধের মোড় ঘুরতেই তারা তক্ষুনি পশুদের পক্ষ নিল।
যুদ্ধ শেষ হলে শান্তি-বৈঠকে বাদুড়দের আচরণ নিয়ে আলোচনা হল। এমন প্রতারণা ছিল অমার্জনীয়, তাই পাখি আর পশুরা মিলে একজোট হয়ে বাদুড়দের তাড়িয়ে দিল। আর সেই থেকে বাদুড়-বংশ অন্ধকার মিনার আর পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে থাকে, কেবল রাতেই উড়ে বেরোয়।
প্রতারকদের কোনো বন্ধু থাকে না।