অনেক দিন আগে সিংহ, শিয়াল, শৃগাল আর নেকড়ে একসঙ্গে শিকারে যেতে রাজি হলো, ঠিক হলো যা-কিছু পাবে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে।
একদিন নেকড়ে দৌড়ে গিয়ে একটা হরিণ ধরল আর সঙ্গে সঙ্গে শিকার ভাগ করার জন্য তার সঙ্গীদের ডাকল।
কেউ না বলতেই সিংহ শিকার কাটাকুটির ভার নিয়ে ভোজের মাথায় গিয়ে বসল, আর ভীষণ ন্যায্যতার ভান করে অতিথিদের গুনতে শুরু করল।
‘এক,’ থাবার নখে গুনতে গুনতে সে বলল, ‘সে হলাম আমি, সিংহ। দুই, সে নেকড়ে, তিন, শৃগাল, আর শিয়াল নিয়ে হলো চার।’
তারপর সে খুব যত্ন করে হরিণটাকে সমান চার ভাগে ভাগ করল।
‘আমি রাজা সিংহ,’ ভাগ শেষ করে সে বলল, ‘তাই প্রথম ভাগটা তো নিশ্চয়ই আমার। পরের ভাগটাও আমারই, কারণ আমিই সবচেয়ে শক্তিশালী; আর এটাও আমার, কারণ আমিই সবচেয়ে সাহসী।’
এবার সে বাকিদের দিকে ভীষণ হিংস্র চোখে তাকাতে লাগল। ‘বাকি যে ভাগটা পড়ে আছে তার উপর তোদের কারও যদি কোনো দাবি থাকে,’ অর্থপূর্ণভাবে থাবার নখ ছড়িয়ে সে গর্জে উঠল, ‘তবে এখনই বলে ফেল।’
যার জোর, জিত তার।