এক সকালে মা ছাগল সংসারের জন্য জিনিসপত্র কিনতে হাটে যাচ্ছিল—সেই সংসারে ছিল শুধু সে আর তার ছোট্ট ছাগলছানা।
‘ঘরটার দিকে ভালো করে খেয়াল রেখো, বাছা,’ সাবধানে দরজায় খিল দিতে দিতে সে ছাগলছানাকে বলল। ‘কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিয়ো না, যদি না সে তোমাকে এই সংকেত-কথাটা বলে: “ধ্বংস হোক নেকড়ে আর তার গোটা বংশ!”’
কী আশ্চর্য, একটা নেকড়ে কাছেই ওত পেতে ছিল আর মা ছাগল যা বলল তা সব শুনে ফেলল। তাই মা ছাগল চোখের আড়াল হতেই সে গুটিগুটি দরজার কাছে গিয়ে টোকা দিল।
‘ধ্বংস হোক নেকড়ে আর তার গোটা বংশ,’ নেকড়েটা মোলায়েম গলায় বলল।
সংকেত-কথাটা ঠিকই ছিল, কিন্তু ছাগলছানা যখন দরজার ফাটল দিয়ে উঁকি দিয়ে বাইরের ছায়ামূর্তিটা দেখল, তখন তার মনটা মোটেই স্বস্তি পেল না।
‘একটা সাদা থাবা দেখাও,’ সে বলল, ‘নইলে তোমাকে ঢুকতে দেব না।’
সাদা থাবা তো এমন জিনিস যা খুব কম নেকড়েই দেখাতে পারে, তাই নেকড়ে মশাইকে যেমন খিদে নিয়ে এসেছিল তেমনি খিদে নিয়েই ফিরে যেতে হলো।
নেকড়েটাকে বনের দিকে চলে যেতে দেখে ছাগলছানা বলল, ‘সাবধানের মার নেই।’
একটা নিশ্চয়তার চেয়ে দুটো নিশ্চয়তা ভালো।