একবার এক শহুরে ইঁদুর গ্রামে থাকা তার এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেল। দুপুরের খাবারে গ্রামের ইঁদুর পরিবেশন করল গমের ডাঁটা, শিকড়বাকড় আর ওক-ফল, সঙ্গে খানিকটা ঠান্ডা জল। শহুরে ইঁদুর খুব অল্পই খেল, এটা-ওটা একটু-আধটু চেখে, আর তার হাবভাবেই বেশ বুঝিয়ে দিল যে নেহাত ভদ্রতা রাখতেই সে এই সাদামাটা খাবার মুখে তুলছে।
খাওয়ার পর দুই বন্ধুতে অনেকক্ষণ গল্প হলো, বলা ভালো, শহুরে ইঁদুরই তার শহরের জীবনের কথা বলে গেল আর গ্রামের ইঁদুর শুনল। তারপর তারা ঝোপঝাড়ের ভেতর একটা আরামদায়ক বাসায় শুতে গেল আর সকাল পর্যন্ত নিশ্চিন্তে আরামে ঘুমাল। ঘুমের ঘোরে গ্রামের ইঁদুর স্বপ্ন দেখল, সে যেন এক শহুরে ইঁদুর, বন্ধুর বর্ণনা করা শহুরে জীবনের যত বিলাস আর আনন্দ সব তার হাতের মুঠোয়। তাই পরদিন শহুরে ইঁদুর যখন গ্রামের ইঁদুরকে তার সঙ্গে শহরের বাড়িতে যেতে বলল, সে খুশি মনে রাজি হয়ে গেল।
শহুরে ইঁদুর যে প্রাসাদে থাকত, সেখানে পৌঁছে তারা খাবার-ঘরের টেবিলের উপর দেখল এক দারুণ ভোজের উচ্ছিষ্ট পড়ে আছে। সেখানে ছিল মিঠাই আর জেলি, পেস্ট্রি, মজাদার পনির—সত্যি বলতে, একটা ইঁদুর কল্পনায় যত লোভনীয় খাবারের কথা ভাবতে পারে, সব। কিন্তু গ্রামের ইঁদুর যেই একটুকরো সুস্বাদু পেস্ট্রিতে কামড় বসাতে যাবে, অমনি শুনতে পেল একটা বিড়াল জোরে মিউ মিউ করছে আর দরজায় আঁচড় কাটছে। ভীষণ ভয়ে ইঁদুর দুটো ছুটে গিয়ে একটা লুকোনোর জায়গায় সেঁধিয়ে গেল, আর সেখানে অনেকক্ষণ চুপটি করে পড়ে রইল, নিঃশ্বাস ফেলতেও যেন সাহস পাচ্ছিল না। শেষে যখন তারা সাহস করে আবার ভোজের কাছে ফিরল, তখন হঠাৎ দরজা খুলে গেল আর টেবিল পরিষ্কার করতে চাকরেরা ঢুকল, পিছু পিছু বাড়ির কুকুরটাও।
গ্রামের ইঁদুর শহুরে ইঁদুরের গর্তে কেবল ততটুকু সময়ই থামল, যতক্ষণে সে তার থলি আর ছাতাটা তুলে নিতে পারে।
তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যেতে যেতে সে বলল, “তোমার হয়তো এমন কত বিলাস আর সুস্বাদু খাবার আছে যা আমার নেই, তবু আমি আমার গ্রামের সাদামাটা খাবার আর সহজ জীবনটাই বেশি ভালোবাসি—তার সঙ্গে যে শান্তি আর নিরাপত্তা জড়িয়ে আছে।”
ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝে প্রাচুর্যের চেয়ে নিরাপত্তাসহ দারিদ্র্যও ভালো।