এক কৃপণ তার সোনা বাগানের এক গোপন জায়গায় পুঁতে রেখেছিল। রোজ সে সেই জায়গায় গিয়ে গুপ্তধন খুঁড়ে বের করত আর একটা একটা করে গুনে দেখত সব ঠিকঠাক আছে কিনা। সে এত ঘন ঘন সেখানে যাতায়াত করত যে, তাকে লক্ষ করতে থাকা এক চোর আন্দাজ করে ফেলল কৃপণ কী লুকিয়ে রেখেছে, আর এক রাতে চুপিচুপি গুপ্তধন খুঁড়ে বের করে তা নিয়ে চম্পট দিল।
কৃপণ যখন তার এই ক্ষতির কথা টের পেল, তখন দুঃখ আর হতাশায় সে ভেঙে পড়ল। সে হাহাকার করল, কাঁদল, আর মাথার চুল ছিঁড়তে লাগল।
এক পথচারী তার কান্না শুনে জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে।
‘আমার সোনা! ও আমার সোনা!’ পাগলের মতো চেঁচিয়ে উঠল কৃপণ, ‘কে যেন আমার সব চুরি করে নিয়ে গেছে!’
‘তোমার সোনা! ওই গর্তের মধ্যে ছিল বুঝি? ওখানে রাখতে গেলে কেন? কেন ঘরে রাখলে না, যেখান থেকে দরকারমতো জিনিস কিনতে হলে সহজেই বের করে নিতে পারতে?’
‘কিনব!’ রেগে চিৎকার করে উঠল কৃপণ। ‘আরে, আমি তো ওই সোনায় কখনো হাতই দিইনি। ওর এক কণাও খরচ করার কথা আমি ভাবতেই পারি না।’
অচেনা লোকটি একটা বড় পাথর তুলে গর্তের ভেতর ছুড়ে ফেলল।
সে বলল, ‘তা যদি হয়, তবে ওই পাথরটাই ঢেকে রাখো। তোমার কাছে ওটার দাম তোমার হারানো গুপ্তধনের সমানই!’
কোনো সম্পদের মূল্য ঠিক ততটুকুই, যতটুকু আমরা তা কাজে লাগাই।