এক ভোরে এক পথহারা মেষশাবক বনের ধারের এক ঝরনার পাড়ে দাঁড়িয়ে জল খাচ্ছিল। সেই একই ভোরে খিদেয় কাতর এক নেকড়ে খাবার খুঁজতে খুঁজতে ঝরনার আরও উজানে এসে পড়ল। শিগগিরই তার চোখ পড়ল মেষশাবকটার উপর। সাধারণত মিস্টার নেকড়ে এমন সুস্বাদু লোভনীয় শিকার কোনো টালবাহানা ছাড়াই গপ করে গিলে ফেলত, কিন্তু এই মেষশাবকটাকে এমন অসহায় আর নিরীহ দেখাল যে নেকড়ের মনে হল, ওর প্রাণ নেওয়ার জন্য কোনো একটা অজুহাত থাকা দরকার।
"আমার ঝরনায় জল ঘেঁটে এত কাদা তুলছিস কোন সাহসে!" সে হিংস্রভাবে চেঁচিয়ে উঠল। "এই দুঃসাহসের জন্য তোর কড়া শাস্তি প্রাপ্য!"
"কিন্তু মহারাজ," ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মেষশাবক জবাব দিল, "রাগ করবেন না! আপনি যে জল খাচ্ছেন, সেটা আমার পক্ষে কোনোভাবেই ঘোলা করা সম্ভব নয়। মনে রাখবেন, আপনি উজানে আর আমি ভাটিতে।"
"ঘোলা তুই করছিস!" নেকড়ে হিংস্রভাবে পাল্টা বলল। "তাছাড়া আমি শুনেছি গত বছর তুই আমার নামে মিথ্যে কথা রটিয়েছিস!"
"তা কী করে হয়?" মেষশাবক কাকুতি-মিনতি করল। "আমার তো এ বছরই জন্ম।"
"তুই না হলে তোর ভাই!"
"আমার তো কোনো ভাই নেই।"
"বেশ, তাহলে," নেকড়ে গর্জে উঠল, "তোর পরিবারেরই কেউ একজন হবে। কিন্তু যে-ই হোক না কেন, আমি কথার প্যাঁচে পড়ে আমার নাশতা ছাড়ব না।"
আর কোনো কথা না বলে নেকড়ে বেচারা মেষশাবকটাকে ধরে বনের দিকে বয়ে নিয়ে গেল।
অত্যাচারী তার অত্যাচারের জন্য সবসময়ই একটা অজুহাত খুঁজে পায়।
অন্যায়কারী নিরীহের যুক্তি কানে তোলে না।